আজ ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবাবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের বেহাল  দশা

স্টাফ রিপোর্টার: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুরে ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা চলছে। ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন নিজেই ‘অসুস্থ’। অবহেলা ও তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা জরাজীর্ণ। হাসপাতালটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। দিনের পর দিন তালাবদ্ধ পড়ে থাকা এই কেন্দ্রটি এখন স্থানীয়দের কাছে একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, চারপাশ ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থাপনাটির শরীরে যেন রোগের বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহে কেবল রবি ও বুধবার খোলা থাকলেও বাকি দিনগুলোতে ঝুলে থাকে বড় তালা। সেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে যান হতাশ হয়ে।

​স্থানীয় বাসিন্দা আলিম আরাফাত বলেন, “এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আমাদের এলাকার প্রাণ হতে পারতো। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া রোগী, সাপে কাটা বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয় না। ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রোগী পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের জন্য এটি একটি বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ​নবাবপুরের ভোরবাজারে অবস্থিত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অত্র এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ভরসার জায়গা হতে পারে। যদি কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয় এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে এলাকার দরিদ্র, ভূমিহীন ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতেন না।

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত জনবল নিশ্চিত করা হলে নবাবপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এই জনপদের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির জানান,আমাদের ইউনিয়নের ৩৫ হাজারের অধিক জনগোষ্ঠীর জন্য উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘ দিন সেবা দিয়ে আসছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ডাক্তার না থাকায় প্রসূতি সেবা সহ তৃণমূল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ গ্রহন করতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান,জনবল সংকটের কারনে সেখানে পরিবার পরিকল্পনা পরির্দশিকা নেই। একজন স্যাকমো ছিলেন তিনিও এলপিআরে চলে গেছেন। তাই বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা কে সপ্তাহে দুইদিন এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুরোদমে সেবা দিতে পারবে।

স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন,সরকার জনগণের চিন্তা করে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

     এই ক্যাটাগরির অন্যান্য নিউজ

Proda Login

gem visa login

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download